করোনা ভাইরাসে সুস্থ থাকার উপায়

 করোনাভাইরাস মহামারী: একচেটিয়াভাবে এর বিষয়গুলি সম্পর্কে জানুন।


2020 সালে, "পজিটিভ" শব্দটি হয়ে গেছে "নেগেটিভ" এবং "নেগেটিভ" শব্দটি হয়ে গেছে "পজিটিভ"। এই বছর

যার মধ্যে নেগেটিভ পাওয়া গেছে সে স্বস্তিতে রয়েছে আর যার মধ্যে পজিটিভ পাওয়া গেছে সে অনেক শঙ্কায়

রয়েছে, কষ্ট ভোগ করেছে।


করোনভাইরাস বা কোভিড -১৯ বিশ্বব্যাপী একটি রোগ যা সংক্রামক এবং এটি বিপজ্জনকও। সুতরাং

প্রত্যেকের এটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা উচিত এবং এর থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায় তা জানা উচিত,

যেন আমরা সবাই এর থেকে সাবধান হতে পারি এবং প্রয়োজনে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারি।


এই আর্টিকেলে, আপনারা এর সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন যে কীভাবে আমরা করোনা ভাইরাস থেকে নিজেদের

রক্ষা করে সুস্থ থাকতে পারি এবং সেগুলি মান্য করার চেষ্টা করবেন। 

করোনাভাইরাস কী:

করোনাভাইরাস হলো একটি সংক্রামক রোগ যা বিনামূল্যে মুক্তার মতো সবার কাছে বিলিত হচ্ছে। এটির

আরেকটি নাম COVID-19। এটি 2019 সালের ডিসেম্বরে প্রথম পাওয়া গেছে। এটি এমন এক ধরণের ভাইরাস

যা সাধারণত মানুষ সহ স্তন্যপায়ী প্রাণীর শ্বাস প্রশ্বাসের ট্র্যাক্ট (মুখ, নাক, গলা) সংক্রামিত করে,

সর্দি-জ্বর, নিউমোনিয়া এবং তীব্র শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। আর এটিকে একটি নোভেল

করোনাভাইরাস হিসাবে বলা হয়। করোনাভাইরাস একটি নতুন স্ট্রেন যা পূর্বে মানুষের মধ্যে সনাক্ত করা যায়

নি।


কোরোনাভাইরাসটি কোথায় শুরু হয়েছিল:

কোভিড -19 এর উদ্ভব চীনের উহান থেকে হয়েছিল। তারা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে লক্ষণগুলির

শুরুতে মানব শরীর থেকে সনাক্ত করেছে। শনাক্ত করার পরে তারা তদন্ত শুরু করে। কিছু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে

এটি ওহানের একটি পাইকারি খাদ্য বাজার থেকে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন টেকনোমি অফ ভাইরাস (আইসিটিভি) ১১ ফেব্রুয়ারিতে নতুন ভাইরাসের নাম হিসাবে "গুরুতর তীব্র শ্বসন সিন্ড্রোম করোনভাইরাস 2 (সারস-কোভি -2)" ঘোষণা করেছিল। ভাইরাসটি জিনগতভাবে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে এই নামটি বেছে নেওয়া

হয়েছিল। ২০০৩ এর সারস প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী করোনভাইরাস যদিও সম্পর্কিত, দুটি ভাইরাসই আলাদা।


এটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে:


আজকে বিশ্বকে বৈশ্বিক গ্রামও বলা হয়। কারণ আমরা আমাদের প্রযুক্তির জন্য সহজে এবং দ্রুত যোগাযোগ

করতে পারি। প্রথমে এটি উহানে শুরু হয়েছিল কিন্তু প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে এর বিস্তার এক ব্যক্তি

থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পরেছিল। এই ভাইরাস ছড়ায় মানুষের নিঃশ্বাসের দ্বারা বাতাসের

মাধ্যমে।তবে তারা বুঝতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারার আগে এটি পুরো বিশ্বের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যা পুরো

বিশ্বের মধ্যে মহামারি সৃষ্টি করে।


করোনা ভাইরাসের লক্ষণগুলি হলো:


করোনাভাইরাস এতটাই জটিল মাঝে মাঝে যে কোনও লোক লক্ষণ ছাড়াই সংক্রামিত হয়। তবে এর কিছু লক্ষণ

রয়েছে যা সম্পর্কে আপনার জানা এবং সতর্ক হওয়া উচিত।


গুরুতর লক্ষণগুলি হলো : ১. শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, ২. বুকের মধ্যে চাপ বা যন্ত্রণা হয়, ৩. বাক্রোধ বা

চলাচলের প্রচলন কম বা সমস্যা হয়, ৪. ত্বকের মধ্যে কিছু ফুসকুড়ি, আঙ্গুলের বিবর্ণতা দেখা দেয়।


সাধারণ লক্ষণগুলি হলো: ১. শরীর ব্যথা করে এবং অস্বস্তি হয়ে থাকে, ২. মাথা ব্যথা, ৩. কনজেন্টিভাইটিস,

৪. ডায়রিয়া, ৫.ঘাড়ে বা গলায় ব্যথা, ৬. কোনো কিছুর স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া, ৭. বমি হয়, ৮. অবসন্নতা,

৯.জ্বর, ১০. স্বর্দি কাশি ইত্যাদি।


আপনার যদি এই লক্ষণগুলি থাকে তবে তা নিয়ে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করুন। কারণ আপনার একটু

অবহেলার কারণে আপনারা সাথে আরও অনেকের মৃত্যু হতে পারে। যদি আপনার যদি নেগেটিভ আসে তবে তা

আপনার জন্য ভাল এবং যদি আপনার পজিটিভ আসে তবে আপনি সবার থেকে বিচ্ছিন্নভাবে থাকবেন বা

এমনভাবে নিজেকে রাখবেন যেন আপনার কাছে কেউ না আসতে পারে কিংবা কেউ সংক্রমিত না হতে পারে। আর

বেশি সমস্যা হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেখানে চিকিৎসা নিবেন।


করোনাভাইরাস এর সমাধান:


আপনার যদি এই লক্ষণগুলির মধ্যে একটি থাকে তবে আপনার এটি পরীক্ষা করা উচিত অন্যথায় এটি দেরী

হতে পারে। আপনার যে সমস্যাগুলি বা লক্ষণ দেখা দিয়েছে তা চিকিৎসকের কাছে খুলে বলুন যেন সে আপনার

লক্ষণ অনুযায়ী আপনাকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারে। তবে স্ব-যত্নও জরুরি। কারণ চিকিৎসক যতই

আপনাকে সেবা দিয়ে যাক না কেন আপনি যদি মানসিক দিক দিয়ে সুস্থ না থাকেন কিংবা সবসময় ভয়ে থাকেন

তবে আপনার শরীর আরও খারাপ হয়ে যাবে যা আপনাকে কখনও ভালো ফল দিবে না।


তবে যাদের করোনা হয়নি অথবা যাদের একবার হয়েছে তাদের যে করোনা হবেনা তা নয়। করোনা যে কোনো

মানুষের হতে পারে। তাই যাদের করোনা হয়নি বা হয়েছে সবাইকে করোনা থেকে সুস্থ থাকার নিয়ম মেনে চলতে

হবে। তবেই আমরা করোনা থেকে মুক্তি পেতে পারি।


তাই এই জন্য আপনাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে যা আপনাকে করোনা সংক্রমন থেকে রক্ষা করতে পারে।

যেমন আপনাকে সবসময় বাইরে গেলে বা কারো সাথে মিশলে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে, গ্লোভস পরতে

হবে, প্রচুর পরিমাণে পানি / তরল পান করতে হবে, সবসবময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত, বাইরের খাবার

খাওয়া বন্ধ করতে হবে বিশেষ করে যেসব খাবার খোলামেলা পাওয়া যায়। এর সাথে আপনাকে শরীরের তাপমাত্রা

চেক করতে হবে যেন তা সবসময় নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।


এছাড়াও আপনাকে সবসময় সক্রিয় থাকতে হবে। যেহেতু করোনার সময় সব কিছু বন্ধ তাই বাইরে যাওয়া বা

শারীরিক পরিশ্রম কম হয়। তাই বাড়িতেই আমাদের শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন

অনুশীলন করতে হবে, স্বাস্থ্যকর ডায়েট বজায় রাখতে হবে, কমপক্ষে এক মিটার দূরে নিজেকে রাখতে হবে।


তবে শারীরিক স্বাস্থের সাথে আপনার নিজের মানসিক স্বাস্থ্যেরও যত্ন নেওয়া দরকার। কেননা এ সময়

আমরা কারো সাথে মিশতে পারি না, কোথাও যেতে পারি না যা আমাদের মানসিক দিক দিয়ে অসুস্থ করে ফেলে।

করণ এইসব একটি বন্দি জীবনের মত যা সবার জন্য খুব বড় একটি মানসিক চাপ। তাই আমাদের এই সময়

পরিবারের সবার সাথে বেশি করে সময় কাটাতে হবে, তাদেরকে সমস্যার কথা খুলে বলতে হবে। তবেই সকলে মিলে

সমাধান করতে পারবে এবং জীবনটা একটু হলেও সহজ হবে।


করোনা ভ্যাকসিনঃ


কোভিড টিকা দেওয়ার প্রচারণা এখন ইউকে এবং সারা বিশ্বে চলছে। মানুষের অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে,

হাসপাতালের চিকিত্সা প্রয়োজন বা মারা যাওয়ার সম্ভাবনা কমাতে প্রচুর ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও দুটি ভ্যাকসিনকে সবেমাত্র বৃহত্তর ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলিতে কাজ করতে দেখানো হয়েছে।


বাংলাদেশেও এখন ভ্যাকসিন এসে পড়েছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনিকা টিকা প্রস্তুতকারী বিশ্বের বৃহত্তম

ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সিরিয়াম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সাথে গত বছরের ডিসেম্বরে একটি ত্রিপক্ষীয়

চুক্তি অনুসারে স্থানীয় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস সংস্থাটি এই ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশে আনার কথা

রয়েছে।


তবে, আরও ভ্যাকসিন পেতে জার্মানির বায়োনেটেক এসই এবং মার্কিন ফিজার ইনক এর সাথে আলোচনা করছে

এবং দরিদ্র দেশগুলিতে কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল স্কিমের

কাছ থেকে এই দেশটি সহায়তা পাবে বলে আশাবাদী।


তাদের ভ্যাকসিনগুলি আনতে বাংলাদেশ একটি চীনা সংস্থার সাথেও যোগাযোগ করছে। সকলে যেন ভ্যাকসিন

পায় সে জন্য সরকার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এই ভ্যাকসিন ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা (প্রতিরোধ

ক্ষমতা) তৈরি করতে শরীরের জন্য টিকা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ সময় নেয়। তার মানে কোনও ব্যক্তি টিকা

দেওয়ার ঠিক পরেও করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। কারণ ভ্যাকসিনের সুরক্ষা দেওয়ার পর্যাপ্ত সময় নেই।


তাই ভ্যাকসিন পাওয়ার আগে কিংবা পরে সবসময়ই আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আর উপরে দেওয়া উপায়গুলো হল করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ থাকার উপায়।


No comments:

Post a Comment