আজকে আমার এই আরটিকেল এ জানবো যে পাইলস অর্শ বা হেমোরয়েড রোগ কি এবং এটি কেন হয় ও এর থেকে বাচার উপায় :
চিকিৎসকেরা একে বলে থাকেন হেমোরয়েড। বাংলায় অর্শ বা পাইলস । রোগের কারনে অনেক এই সমস্যায় আছে । কারন একবার পাইলস বা অর্শ হয়ে গেলে তা যাবার নাম নেয় না। পাইলস হেমোরয়েড বা অর্শ এমন একটা রোগ যা কিনা অনেকই আছে যে একবার তার এই রোগ টা হয়ে গেলে সেটা কারো সাথে লজ্জায় বলতে চায় না ।যার ফলে এটি আরও সমস্যার কারন কেননা এটি যদি একবার কোন মানুষের একবার হয় তাহলে তার সাস্থের জন্য অনেক ক্ষতিকর যেটা কল্পনার বাহিরে । একটা উধারন দিয়ে আপনাদের বুজাই, মনে করেন যে, একটা কলসি তে এক কলসি পানি আছে, এখন যদি সেই কলসি থেকে প্রতিদিন এক ফোটা পানি পরে যায়, তাহলে সেই কলসি তে পানি থাকবে অবশ্যয় আপনাদের উত্তর হবে না । আর এই পাইলস রোগ টাও ঠিক এই রকমই।আর এই রোগটা যে কোন মানুষ এর যে কোন সময় হতে পারে ।
আসুন আমরা জানি যে পাইলস এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে-
অর্শ হেমোরয়েড বা পাইলস রোগের কারন গুলা হল :
১. অনেক দিন ধরে ডাইরিয়া হওয়া
2. শাকসবজি বা অন্য সব আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া
3. খাবার পানি খুব কম পরিমানে খেলে
4. মানুষের শরীরে অতিরিক্ত ওজন হয়ে গেলে
5. গর্ভাবস্থা থাকা এমন অবস্তায়
6. মল ত্যাগে করার সময় বেশি করে চাপ দিলে
7. কোন কারনে যদি লিভার সিরোসিস হয়
8. টয়লেটে করতে গিয়ে যদি বেশি সময় থাকা
9. বয়স বেশি হয়ে গেলে
10. পরিবারের ভিতরে যদি কারো পায়লস থেকে তাহলে
11. ভারি জিনিস উত্তোলন করা
12. বেশি পরিমানে মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরম করার ওষুধ)ব্যবহার করা
13. তৈলাক্ত খাবার বেশি পরিমানে খেলে
14. অনেক দিন এর আগের বাঁশি খাবার খেলে
15. দীর্ঘ সময় কোন খানে বসে থাকা
Note : মূলত এই সকল কারনেই পাইলস রোগ হয়ে থাকে মানুষের শরীরে
অর্শ হেমোরয়েড বা পাইলস এর সকল লক্ষণসমূহ নিছে দেয়া হল :
মলদ্বারের অভ্যন্তরে যদি হয় তাহলে নিচের এই লক্ষণগুলো বিশেষ করে দেখা দেখা যেতে পারে-
1. পায়খানার সময় মলদ্বারে ব্যথা হতে পারে
2. পায়খানার সময় মলদ্বার থেকে রক্ত বের হতে পারে
3. মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে
4. মলদ্বারে যন্ত্রণা হতে পারে
5 কোনো কোনো সময় মলদ্বারে ব্যথাও অনুভব হতে পারে
6. অনেক সময় মলদ্বারে জ্বালাপোড়া হতে পারে
7. মলদ্বারের ফোলা অংশ প্রাই বেশি ভাগ সময়ই ভিতর থেকে বাহিরে বের হয়ে আসতে পারে, অথবা নাও আসতে পারে
৮ . পায়খানার সময় প্রচুর কষ্ট হতে পারে ।
মলদ্বারের বাইরে যদি হয় তাহলে নিচের এই লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারেঃ
1. মলদ্বারের বাহিরে অনেক সময় ফুলে জেতে পারে আর সেটা হাত দিয়ে ও স্পর্শ করা অথবা ও অনুভব করা যায়।
2. কোন কোন সময় রক্তপাত হতে পারে অথবা মলদ্বারে ব্যথাও অনুভব হতে পারে
অর্শ হেমোরয়েড বা পাইলস রোগে আমাদের যা করণীয় টা নিচে দেয়া হল ঃ
1. কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সেদিকে খেয়াল দিতে হবে, এবং এই বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে
2. প্রতিদিন মলত্যাগ করতে হবে ।
3. প্রচুর পরিমানে শাকসবজী ও অন্যান্য সকল আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে
4. প্রতিদিন মূলত ১০-১২ গ্লাস পানি পান করা।
5. অতিরিক্ত পরিমানে অথবা বেশি পরিমানে পরিশ্রম না করা কম পরিশ্রম করা ।
6. প্রতিদিন মূলত ৯ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুমানো
7. শরীরের ওজন ঠিক রাখা
8. টয়লেটে বেশি সময় না থাকা
9. সহজে হজম হবে এই সমস্ত খাবার খাওয়া, যে সকল খাবার হজম হবে না সে গুলা না খাওয়া ।
10. ডাক্তারের পরামর্শ মতন চলা
11. লেকজেটিভ বেশি পরিমানে না খাওয়া কম পরিমানে খেতে হবে ।
12. মল ত্যাগ করবার সময় বেশি পরিমানে চাপ না দেয়া।
13. অনেক দিন ধরে যদি আপনার ডায়রিয়া থাকে তাহলে তার চিকিৎসা করা ।
অর্শ হেমোরয়েড বা পাইলস রোগে যে সকল খাবার খেতে হবে টা নিচে দেয়া হল :
শাকসবজি, সব ধরনের ফলমূল, সব ধরণের ডাল, সব ধরনের সালাদ, দধি,
লেবু ও এ জাতীয় টক ফল, পাকা পেপে, ডিম, মাছ, মুরগীর মাংস, ভূসিযুক্ত (ঢেঁকি ছাঁটা) চাল ও আটা ইত্যাদি।
পাইলস হেমোরয়েড বা অর্শ রোগে যে সকল খাবার খাবেন না টা নিছে দেয়া হল :
1. গরুর মাংস
2. খাসির মাংস
3. চর্বিযুক্ত যে সকল খাবার আছে সেগুলো
4. সকল ধরনের ভাজা পুরা খাবার - যেমন পরোটা, সিঙ্গারা, ছমুছা , তৈলাক্ত সব ধরনের পিঠা , চিপস , লুচি ইত্যাদি ।
5. হাসের মাংস
6. হাসের দিম
7. ইলিস মাছ
8. চিংড়ি মাছ
9. চা
10. কফি
11. আটার রুটি
12. আইসক্রীম
13. কোমল পানীয়
14. মিষ্টি জাতিও খাবার না খাওয়া - যেমন - ছানা, সন্দেশ , ঘি আরও যে সকল খাবার আছে সে গুলা না খাওয়া
আজকে আমাদের এই আরটিকেল থেকে জানলাম কেন পাইলস রোগ হয় ও তার প্রতিকার সম্পর্কে আশা করি এই আরটিকেল টি পরে আপনারা পাইলস সম্পর্কে সমস্ত তথ্য জানতে পারবেন ইনশাল্লাহ...........
No comments:
Post a Comment