কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নতুনদের জন্য

 

কম্পিউটারঃ

বর্তমান যুগকে বলা হয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ।  কম্পিউটার আমাদেরকে দিয়েছি আধুনিকতার এক ভিন্নমাত্রা।  কম্পিউটার  ছাড়া একমুহুর্ত কল্পনাও করা যায়না।  হিসাব করার জন্য  তৈরী হলেও এর মাধ্যমে বর্তমানে সকল ধরনের কাজ করে থাকি আমরা।সর্বপ্রথম আধুনিক কম্পিউটারের সূচনা হয় হাওয়ার্ড এইকিন এর হাত ধরে। 

কম্পিউটার এর দুইটা অংশ রয়েছেঃ ১  হার্ডওয়্যার,  ২ সফটওয়্যার 

কম্পিউটার কি?


একটি কম্পিউটার একটি বৈদ্যুতিন ডিভাইস যা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ডেটা গ্রহণ করে, এটি প্রক্রিয়া করে, ফলাফল তৈরি করে, ব্যবহারকারীর কাছে প্রদর্শন করে এবং ভবিষ্যতের ব্যবহারের জন্য ফলাফলগুলি সংরক্ষণ করে।

ডেটা হ'ল অসংগঠিত তথ্য ও পরিসংখ্যানের সংগ্রহ এবং নিদর্শন, প্রসঙ্গ ইত্যাদি সম্পর্কিত আরও কোনও তথ্য সরবরাহ করে না সুতরাং তথ্যের অর্থ "অব্যবহৃত তথ্য এবং পরিসংখ্যান"।

তথ্য হল একটি কাঠামোগত ডেটা অর্থাৎ সুসংহত অর্থবহ এবং প্রক্রিয়াজাত ডেটা। ডেটা প্রক্রিয়া করতে এবং তথ্যে রূপান্তর করতে, একটি কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।





কম্পিউটার প্রয়োগিক দিকগুলো নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো :


বাড়ি

কম্পিউটারগুলি অনলাইনে বিল পরিশোধের জন্য, ঘরে বসে সিনেমা দেখা বা শো, হোম টিউটারিং, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেস, গেমস খেলানো, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বাড়িতে ব্যবহার করা হয় electronic এগুলো বৈদ্যুতিন মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ সরবরাহ করে। তারা কর্পোরেট কর্মীদের জন্য হোম সুবিধা থেকে কাজ পেতে সহায়তা করে। কম্পিউটারগুলি অনলাইন শিক্ষাগত সহায়তা পেতে ছাত্র সম্প্রদায়ের সহায়তা করে।


চিকিৎসা ক্ষেত্রে


কম্পিউটারগুলি হাসপাতালে রোগীদের ইতিহাস, ডায়াগনোসিস, এক্স-রে, রোগীদের সরাসরি পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির একটি ডাটাবেস বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয় Sur সার্জনরা আজকাল সূক্ষ্ম অপারেশন করতে রোবোটিক সার্জিক্যাল ডিভাইসগুলি ব্যবহার করে এবং দূরবর্তী অবস্থান থেকে সার্জারি পরিচালনা করে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিগুলি প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এটি মাতৃ গর্ভের ভিতরে থাকা ভ্রূণকে নিরীক্ষণ করতে সহায়তা করে।

           

  হার্ডওয়্যার; কম্পিউটার এর যে সকল যন্ত্রপাতি সমূহ সকল ধরনের কাজ করে থাকে সেগুলোই হার্ডওয়্যার। যেমন মনিটর, সিপিইউ, র‍্যাম, রম, মাদারবোর্ড, প্রসেসর, মাউস, কিবোর্ড, স্পিকার, হেডসেট, প্রিন্টার, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন, ওয়েবক্যাম, গ্রাফিক্সকার্ড ইত্যাদি।


২ সফটওয়্যার ;

কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার জন্য যে সকল ফাংশন ব্যাবহার করা হয় সেগুলোই হল সফটওয়্যার। যেমন মাইক্রোসফট অফিস এর ওয়ার্ড,  এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, এডোবি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর ইত্যাদি।


মাদারবোর্ডঃ 

কম্পিউটারের  অন্যতম  প্রধান অংশ হল মাদারবোর্ড। এটি হল কম্পিউটারের অন্যান্য সকল হার্ডওয়্যার কে সংযোগকারী। এতে সংযোক্তথাকে প্রসেসর, র‍্যাম, রম ( হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ/ সলিড স্টেট ড্রাইভ), বিভিন্ন  পোর্টসমূহ, ইউএসবি  ইত্যাদি সংযোগ থাকে।  আসুস, গিগাবাইট বিভিন্ন কোম্পানির মাদারবোর্ড বাজারে পাওয়া যায় । 


প্রসেসর: 

প্রসেসর হল কম্পিউটারের সকল প্রক্রিয়াকরনকারী অংশ যা আমাদেরকে সকল কাজসমূহ করে দেয় | একটি প্রসেসরে লক্ষ লক্ষ চিপ থাকে |  ইন্টেল, এএমডি, রাইজেনসহ অনেক কোম্পানীর প্রসেসর পাওয়া জায় | 


হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ:

হার্ডডিস্কড্রাইভ বা  এইচ ডি ডি হল  কম্পিউটার এর মেমরি যা কম্পিউটারের  সকল তথ্যাসমূহ রিড রাইট করে থাকে | এইখানেই সকল তথ্যাসমূহ জমা থাকে | 250 জিবী থেকে 1 টেরাবাইট হার্ডডিস্ক দিয়ে যে কোন কাজ সহযেই করা জায় |  

 

এস এস ডি : 

এস এস ডি হল সলিড স্টেট ড্রাইভ | এর ডেটা রিড রাইট ক্ষমতা অনেক বেশী | এর মাধ্যামে  কম্পিউটারের কাজের গতি অনেক বেড়ে যায় | হার্ডডিস্ক ড্রাইভ এর পরিবর্তে এস এস ডি কার্ড ব্যাবহার করলে কম্পিউটার অনেক দ্রুত কাজ করে | কিন্তু হার্ডডিস্ক ড্রাইভ এর তোলনায় এস এস ডি কার্ড এর দাম অনেক বেশী হয় | অধিক পরিমানে ব্রাউজিং করলে এস এস ডি কার্ড ব্যাবহার করতে পারেন |


গ্রাফিক্সকার্ড:

ভালমানের গেমিং করার জন্যা গ্রাফিক্সকার্ড প্রয়োজন হয় | বিভিন্যা রকম ভালমানের ডিজাইন করার জন্য গ্রাফিক্সকার্ডের প্রয়োজন |  


সফটওয়্যার:

কম্পিউটারে সকল কাজসমূহ আমরা সফটওয়্যার দিয়ে করে থাকি |  অফিসিয়াল কাজ করার জন্য মাইক্রোসফট  অফিস, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট এর গুরুত অনেক |  ছাত্রছাত্রীদের বিশুদ্ধভাবে ইংরেজী লেখার জন্য ভাল একটা  এপস হল গ্রামারলি | এটির মাধ্যামে সহজেই ইংরেজী লিখতে পারবেন | গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য এডোবি ফটোশপ,  এডোবি ইলাস্ট্রেটর অনেক জনপ্রিয় | ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলাপমেন্ট শিখার জন্য নোটপ্যাড++, সাবলাইম টেক্সট, ড্রিমওয়েভার, ভিএস কোড সবচেয়ে জনপ্রিয় | ওয়েব ডিজাইন শিখার জন্য এ কোড এডিটরগুলো ব্যবহার করা হয় | এছাড়া ওয়েবডিজাইন শিখার জন্য এইচ টি এম এল,  সি এস এস,  জাভাস্ক্রিপ্ট,  পি এইচ পি,  ওয়ার্ডপ্রেস শিখলে যে কেউ ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভলাপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন 

 এ ছাড়াও পাইথন,  জাভা, পার্ল, সি, সি++ প্রেগামিং ল্যাংগুয়েজ শিখে একজন সফটওয়্যার ডেভলাপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া যায় | ��যে কোন কিছু আপনি সহজেই শিখতে পারবেন, এজন্য সবচেয়ে বেশী কাজে দিবে গুগল |

 

নিজে নিজে কি শিখতে পারব?



 এই প্রশ্নের উত্তরে এককথায় বলব    অবশ্যই     পারবেন | তবে আপনাকে হতে হবে অনেক কৌশলি | সবচেয়ে বেশী    সাহায্য   নিতে পারেন ইউটিউব থেকে,  এছাড়াও গুগলে সার্চ দিবেন | যেটাই না বুঝবেন সেটাই গুগল বস থেকে জেনে নিবেন | বেশী বেশী করে অনলাইনে পড়ার অভ্যাস করবেন | আমি মোবাইলে প্রচূর পিডিএফ বই পড়তাম সে থেকে মোবাইলে পড়ার অভ্যাস হয়ে গেছে | আপনি যখন নিজে নিজে কোন কিছু শিখতে যাবেন তখন আপনার কোন শিক্ষক থাকবেনা, তাই আপনি নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে যাবেন | আপনার অনেক  বেশী ধৈর্য ধরতে হবে | ভাল করে চিন্তা করে গভীরভাবে  বুঝতে হবে | আর কোনকিছু শুধু পরলেই হবেনা বরং গভীরভাবে চিন্তা করে ভাল করে বুঝার চেষ্টা করতে হবে | ওয়েব ডিজাইন ও ডেভলাপমেন্ট শিখার জন্য ডব্লিও থ্রী স্কুল সবচেয়ে বেস্ট | এছাড়াও রয়েছে কোর্সেরা,  সলো লার্ন,  গিটহাব, ফ্রী কোড ক্যাম্প  ফ্রী কোর্স রয়েছে এবং ইউডেমি এর পেইড কোর্স পাবেন | এসকল ওয়েবসাইটে আপনি এনরোল করে কোর্স কমপ্লিট করে সার্টিফিকেট পেতে পারেন | ইউটিউব ভিডিও দেখে একটা প্র‍্যাকটিক্যাল নলেজ পেয়ে যাবেন | আর্টিক্যাল পড়ার সময় সবকিছু  বুঝে পড়ার চেষ্টা করবেন।কোনকিছু না বুঝা মাত্রই গুগল করে দেখে নিবেন।আর প্রতিদিন আপনাকে প্র‍্যাকটিস করতে হবে। একদিন ১০ ঘন্টা দেখলাম আর ১৫ দিন কোন খোজ খবর নাই এমন হলে চলবেনা। নিয়মিত ৪-৬ ঘন্টা লেগে থাকবেন। খুটিনাটি বিষয়গুলাকে জেনে নিবেন।  শুধু ভিডিও দেখলেই হবেনা একটু পজ দিয়ে প্র‍্যাকটিস করে নিবেন।  আর সম্পুর্ন কপি করে কাজ না করে একটু নিজ থেকেও কাজ করবেন। এতে করে আপনার ক্রিয়েটিভিটি বাড়বে।  বেশি করে প্র‍্যাকটিস করলে আপনার কাজের দক্ষতা অনেক বাড়বে। মনে করুন আপনি কোডিং শিখতেছেন তাহলে অন্যের করা কোডগুলো বেশি করে দেখবেন। নিজে নিজে প্রজেক্ট বানাবেন। গিটহাব থেকে কোড থেকে প্র‍্যাক্টিস করতে পারেন। আপনার কম্পিউটার না থাকলেও মোবাইল দিয়ে শুরু করতে পারেন। মোবাইলে এইচ টি এম এল, সি এস এস ও সামান্য জাভাস্ক্রীপ্ট প্র‍্যাক্টিস করতে পারবেন এন রাইটার ফ্রী এপসটি ডাউনলোড করে।  কোডিং সি এপস দিয়ে সি প্রোগ্রামিং প্র‍্যাক্টিস করতে পারবেন। এই দুইটা এপস ইন্টারমেডিয়েট এর ছাত্র ছাত্রিদের আইসিটি বইয়ের এইচ টি এম এল ও সি প্রোগ্রামিং করতে সাহায্য করবে। যারা দশম শ্রেনীর নিচে পরেন কিন্তু প্রোগ্রামিং শিখতে চান তারা পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ করতে পারেন, এটা একটা বিগিনার ফ্রেন্ডলি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। 


আর যাদের ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কিনার বাজেট নাই তারা রাস্পবেরি পাই কিনে বাসাতে একটা ছোট কম্পিউটার বানিয়ে নিতে ৫০০+ বাজেট হলেও হবে। এতে আপনি সকল কাজগুলাই করে নিতে পারবেন সহজেই।এটা ছাত্র ছাত্রিদের জন্য অনেক বেশি ভাল হবে যাদের বেশি বাজেট নাই। ক্লাসের এসাইনমেন্ট   থেকে শুরু করে সবকিছুই করতে পারবেন অনেক সহজেই।  আর শিখার জন্য সবকিছুই আছে আপনাকে খুজে খুজে সব কিছু সংগ্রহ করতে হবে। প্রোগ্রামিং শিখার জন্য অনেক অনেক বই রয়েছে। জাভাস্ক্রিপ্ট শিখার জন্য পরতে পারেন জুনায়েদ আহমেদ এর বইটি। তামিম শাহরিয়ার সুবিন ও ঝংকার মাহবুব এর অনেক বই আছে শিখার জন্য। তাই যত তাড়াতাড়ি পারেন শুরু করে দিতে পারেন। কোডিং শিখে ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভলাপার,  এপ্লিকেশন ডেভলাপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। প্রোগ্রামারদের চাহিদা সবসময় থাকবেই। তাই ভাল ক্যারিয়ার গড়ার জন্যা চোখ বন্ধ করে শিখে নিতে পারেন। আর দক্ষ একজন প্রোগ্রামার হতে পারলেত  অনেক  অনেক বেশি আয় করতে পারবেনই। আপনি বিভিন্যা আইটি ফার্মে জব করতে পারবেন। তাছাড়া ফ্রিলান্সিং করার জন্য ফাইভার,ফ্রিল্যান্সার,  পিপল পার আওয়ার, গুরু সহ হাজার হাজার মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবেন। তাই আগে নিজেকে দক্ষ হিসেবে তৈরী করতে হবে। ভাল কাজ পারলে আপনাকে কাজ পাওয়া নিয়ে বেশী চিন্তা করতে হবেনা। তাই আগে ভাল করে শিখার জন্য গুরুত্ব দিন। আর কম্পিউটারে কাজ করার জন্য বা কাজ শিখার জন্য ইংরেজী শিখার বিকল্প নেই। মার্কেটপ্লেসে কাজ করার জন্য ইংরেজি ভাষাতে যোগাযোগ করতে হয়। তাই নিয়মিত ইংরেজী শিখা শুরু করে দিন। একেবারেই না বুঝলে গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করতে পারেন।তবে ইংরেজী শিখে ফেলতে পারলে সবথেকে ভাল হবে।


No comments:

Post a Comment