চুল পড়া বর্তমান সময়ের জন্য একটি বড় সমস্যা। আমরা সবাইই মাথা ভর্তি চুল চাই।কখনো কখনো চুল পড়া আমাদের মাথাব্যাথার প্রধান কারন হয়ে দাড়ায়। কে না চায় তার লম্বা ও ঘন চুল থাকুক। চুল মানুষের সূন্দর্যকে বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়। অনেকে চুল পড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চুল কে ছোট করে ফেলেন, তাড়পরেও চুল পড়ে। কিন্তু সবার বড় ও সাস্থবান চুলের সৌভাগ্য হয়ে উঠেনা। বংশগত কারনেই হোক কিংবা হরমোনাল কারণেই হোক বা শারীরিক কোন সমস্যার কারনে আমাদের মাথার কিছু অংশ অথবা মথার পুরুটা থেকে দ্রুত চুল পড়তে থাকে। স্বাভাবিক নিয়মেই প্রতিদিন কিছু না কিছু চুল ঝরে পড়বেই কিন্তু পরিমানটা যদি বেশি হয় তবে চিন্তার কারন হয়ে দাড়ায়। অনেকের গোঁড়া থেকে চুল উঠে আসএ আবার চুলে ভেঙ্গেও যেতে পারে।
একজন সুস্থ মানুষের মাথায় গড়ে এক থেকে দেড় লাখ চুল থাকে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টা পর্যন্ত চুল পড়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পড়লে তা অবশ্যই চিন্তার কারণ। বালিশ, তোয়ালে বা চিরুনিতে থাকা চুলগুলোকে গুনে দেখুন কি পরিমানে চুল পড়ে। কমপক্ষে পরপর তিন দিন এভাবে দেখুন কি পরিমানে চুল উঠে। অথবা সামান্য কিছু চুল সামান্য টান দিয়ে দেখুন। যদি হাতে নেওয়া চুলের চার ভাগের এক ভাগ বা তার বেশি চুলই উঠে যায়, তবে তা চিন্তার কারন।
এজন্য আমাদেরকে কে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
চুল পড়ার কারনসমূহ;
সাধারণত এন্ড্রোজেনিক কারণে ছেলে এবং মেয়ে সকলেরই চুল পড়েতে দেখা যায়। অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোনগুলো হল টেস্টোস্টেরন, অ্যান্ড্রোস্ট্রেনডিয়ন, ডিএইচটি হরমোন। এসকল হরমোনসমূহ সাধারণত মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের দেহে অধিক পরিমানে থআকে।এসকল হরমোন হেয়ার ফলিকলে কাজ করার জন্য চুল পড়া অধিক বেড়ে যায়।
এছাড়া চুল পড়া বংশগতভাবেও হতে পারে। অনেক পরিবারের মধ্যে এই কারনে চুল পড়ার সমস্যা দেখা যায়। চুল পড়া কোন রোগ নয়।
অনেক সময় দেখা যায় যে কিছু ঔষধের পার্শপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যায়। যেমন ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কেমোথেরাপি সাময়িক ভাবে চুল বেশি পড়ে থাকে।ঔষধ নেয়া বন্ধ করলে তা নিজ থেকেই চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায়।
আবার খাবারে পুষ্টির অভাবে চুল পড়া বেড়ে যায়। খাবারে প্রয়োজনীয় পরিমানে প্রোটিনের, মিনারেলস এবং ভিটামিন না থাকলে চুল পড়া বৃদ্ধি করে। অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের গর্ভাবস্থায়, সন্তান প্রসবের পর কিছু হরমোনের কারণে অথবা মাসিকের কারনে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে।
একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম সমস্যা দেখা যায়। কারো মাথার থেকে চুল উঠে পাতলা হয়ে যায়। আবার কারো ক্ষেত্রে নতুন চুল গজায় না।
এই চুল পড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমদের কে প্রথমে এর কারন খুজে বের করতে হবে। তাড়পর সে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাহলে আশা করা যায় যে চুল পড়া হয়ে যায়।তাছাড়াও সাস্থবান, সুন্দর, ঘন ও লম্বা চুলের জন্য ভাল করে যত্ন নিতে হবে।
এজন্য আমদেরকে নিয়মিত রূপচর্চা করতে হবে । আমদের অবহেলার কারনে অনেক সময় সুন্দর চুলকে হারাতে হয়। নিয়মিত চুলের যত্ন নিলে আমাদের চুলের সুন্দর্য রক্ষা করতে অনেক সহায়ক হবে। চুল পড়া বন্ধ করতে আমাদের কে বাহ্যিক যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি খাওয়ার ব্যপারেও অধিক যত্নবান হওয়া উচিত। প্রতিদিন দুধ, ডিম ও কলা খাওয়া বিশেষ করে সকালে খাওয়া চুলের জন্য খুবই উপকারি।
বর্ষা মৌসুমে চুল পড়ার সমস্যা খুব বেশি বেড়ে যায় কারন এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। মতাই এ সময় চুলের অধিক যত্নের প্রয়োজন হয়। গোসলের করার পূর্বে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এ ছাড়াও নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহন না করলে ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারনে অধিক চুল পড়ে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার দেখা দিলে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
চুল পড়া বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় টিপস:
যদি পুস্টি উপাদানের অভাবে চুল পড়ে তবে আপনার খাদ্য গ্রহনের প্রতি যত্নবান হোন। অধিক পরিমানে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। খাবারের সাথে কিছু ভিটামিন এবং খনিজ লবন গ্রহণ করুন।প্রোটিনে ভরপুর ডায়েট খান
আপনআর খাদ্য তালিকা আপনার চুলের স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। চুলের eighty five eighty five eighty five, তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখতেই হবে। চর্বিহীন মাংস, ডিম, দুধ এবং দই আর ছানা রাখতে পারেন আপনার খাদ্য তালিকায়। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে আপনার চুলও থাকবে মজবুত, ঘন আর স্বাস্থ্য-ঝলমল।
পরিমিত পরিমাণে আয়রন আর জিঙ্ক চুল গজানোর জন্যে সহায়ক হয় তাই আয়রন, জিংক সমৃদ্ধ মটরশুঁটি, বাদাম, কলিজা, মাংস, দুধকে খাদ্য তালিকায় রাখুন। আর প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন।
চুলে নিয়মিত তেল ব্যবহার করতে হবে:
অবশ্যই নিয়মিত মাথায় তেল দিতে হবে। চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো নারকেল তেল যা চুলকে মসৃণ করে এবং ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাশের আক্রমন থেকে চুলকে রক্ষা করে । পাশাপাশি ২-৩ দিনের মধ্যে অন্তত একবার চুলকে শ্যাম্পু করার আগে চুলে তেল ম্যাসাজ করতে হবে।
রোজমেরি ল্যাভেন্ডার :
ল্যাভেন্ডার এর তেল চুল পড়া বন্ধ করার পাশাপাশি চুল গজাতেও সহায়তা করে। এতে থাকা বিভিন্য রাসায়নিক উপাদানসমূহ চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে থাকে। শুকনো চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার ব্যবহার না করে শ্যাম্পুর সাথে সামান্য পরিমানে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত।
কন্ডিশনার এর ব্যবহার :
কন্ডিশনার ব্যবহার করলে তা চুল এর গোড়াকে মজবুত করে ও চুলকে মসৃণ করে। তবে অবশ্যই আপনার চুলের ধরন অনুযায়ি কন্ডিশনার বেছে নিলে অধিক সুফল পাওয়া যাবে । বিটরুট নির্যাস, অ্যাকুয়া, প্রো ভিটামিন বি-৫ সমৃদ্ধ কন্ডিশনারগুলো আপনার চুল এর অধিক যত্ন নিতে সহায়ক হবে।
সামান্য কুসুম গরম পানির ব্যবহারঃ
অধিক গরম পানি ব্যভার করলে মাথার তালুর গুরুতর ক্ষতি হয়, তাই সহজে চুল পড়ে ও চুল এর গোরা দুর্বল হয়ে যায়। এজন্য চুলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভাল।
খাবার খাওয়ার সময় করনীয়ঃ
ভাল সাস্থ্যবান চুলের জন্য নিয়মিত সুষম, পুষ্টিকর ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করতে হবে। দুধ, ডিম, ভিটামিন- ই ও সামদ্রিক মাছ চুলের জন্য খুবই উপকারি।
হেয়ারপ্যাক ব্যবহার:
অনেক যত্ন নেওয়ার পরেও যদি চুল পড়া বন্ধ না হলে হেয়ারপ্যাক ব্যাবহার করা যেতে পারে। ঘৃতকুমারী, আমলকী, শিকাকাই, নিমের গুঁড়ো সম্পরিমানে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে সপ্তাহে একবার চুলে ব্যবহার করতে হবে। ডিম, মেথির গুঁড়ো ও টক দই মিশিয়েও প্যাক তৈরি করা যায় ও সপ্তাহে দুদিন প্যাকটি ব্যবহারে চুলের গোড়া মজবুত হবে। প্যাক ধোয়ার জন্য সামান্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হয়।প্রতি দশ থেকে পনেরো দিনে একবার হেয়ারপ্যাক ব্যবহার করুন। ঘরোয়াভাবে প্যাক তৈরী করে চুলের সুরক্ষায় ব্যবহার করতে পারেন।
হিটারের মাধ্যমে চুল শুকানো থেকে বিরত থাকুন :
গরম বাতাস বা হিট কোনভাবেই চুলে নেওয়া যাবে না। এটি চুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারন হয়ে দাড়ায়।
চুলের যত্নে কার্যকরী কিছু হেয়ার কেয়ার টিপস:
চুল সুরক্ষিত রাখুনঃ
সবসময় চুলকে সবসময় সূর্যের কড়া রোদ, বৃষ্টি,তাপ, ধুলোবালি ইত্যাদি থেকে সুরক্ষিত রাখাতে হবে। এসব কারনে চুলের দুর্দশা ডেকে আনে।
ধীরে ধীরে জমাট বাঁধা চুলের গোড়া থেকে শুরু হয় ও ফলস্বরূপ চুল পড়তে শুরু করে। তাই খোলা আকাশের নিচে রোদ, ঝড় ও বৃষ্টিতে চলাচলের সময় ছাতা ব্যবহার করা উচিত। এমনকি হিজাব ব্যবহার করলেও চুলকে সহজেই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
ভেজা চুলকে যেভাবে যত্ন নিবেনঃ
ভেজা চুল নড়ম হয়ে থাকার জন্য বেশি চাপ দিলে সহজেই চুল ভেঙে যায়। তাই গোসলের পরে বেশি চাপ দিয়ে কাপড় বাধবেন না। শ্যাম্পু ব্যবহার করার সময় হালকা করে চাপ দিয়ে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।গোসল করার একদম পরেই চিরুনি ব্যবহার না করাই ভাল।
সঠিকভাবে শ্যাম্পু করবেন যেভাবেঃ
গোসলের পূর্বে মাথার তালুতে সামান্য তেল লাগিয়ে মাসাজ করতে পারেন ও চুল আঁচড়িয়ে নিবেন।যেন চুল নষ্ট না হয় এবং চুলের জট না বাধে।যদি চুলে জট বাধে তাহলে জট খোলতে সর্বদা বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করলে চুলের জন্য ভাল।সপ্তাহে কয়েকবার চুলে শ্যাম্পু করবেন না কারন চুলে বেশি শ্যাম্পু করলে চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে চুল শুস্ক হয়ে যায়।চুলে শ্যাম্পু করার আগে চুলকে ভিজিয়ে নিতে হবে।প্রয়োজনীয় শ্যাম্পু বাটিতে নিয়ে তার মধ্যে একটু পানি মিক্স করে পাতলা করে নিলে লাগাতে সুবিধা হবে। আর চুল তাড়াতাড়িও পরিষ্কার হবে।প্রথমে মাথার তালুতে ভালোভাবে লাগাবেন, তারপর চুলের নিচের দিকে খুব বেশি চাপ না দিয়ে আলতো করে লাগাবেন।
বাতাসে বিদ্যমান ধুলাবালি ও বিভিন্য প্রকারের ময়লা থেকে আপনার চুলকে পরিষ্কার করার জন্য আপনার চুলের জন্য উপযোগী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন ।
শ্যাম্পু করার পুর্বে তেল দিয়ে মাসাজ করে তাড়পরে শ্যাম্পু করুন। চুলে বেশি ময়লা থাকলে দুইবার শ্যাম্পু করুন।শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে লেবু বা চায়ের লিকার দিয়ে চুল ধুয়ে দিলে চুল সিল্কি হবে।
প্রতিসপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন ভালো শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন।
নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করুনঃ
প্রতিদিন গোসল করার পরে অথবা চুল ধোঁয়ার পরে কন্ডিশন ব্যবহার করলে চুল অনেক বেশি মসৃন হয়, ফলে সহজেই চুল ভেংগে পড়তে পারেনা।
কন্ডিশনার ব্যবহার করার সঠিক নিয়মঃ
কন্ডিশনারের কাজই যেহেতু চুলকে মসৃন করা তাই চুলের গোরাতে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
তাই কন্ডিশনার ব্যবহার চুলের গোড়া থেকে অন্তত এক ইঞ্চি দূর থেকে চুলের প্রান্ত পর্যন্ত ব্যবহার করা উচিত।চুল ধোয়ার পর ৫/১০ মিনিট চুলে কন্ডিশনার রেখে চুল ভালো করে ধুয়ে নেবেন
তাছাড়া যারা অতিরিক্ত কন্ডিশনার চুলে ব্যবহার করে থাকেন, তাদের চুল অতিরিক্ত তৈলাক্ত হওয়ার বেশি সম্ভাবনা অনেক।তাই অতিরিক্ত মাত্রায় কন্ডিশনার ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভাল।
তোয়ালে ব্যবহার করুনঃ
গোসল করার পড়ে আপনার চুলকে তোয়ালে দিয়ে বেশি শক্ত করে বাধবেন না। চুলে তোয়ালে দিয়ে বাড়ি দিয়ে পানি ঝরালে চুলের আগা ফেটে যায় এবং ভিজে অবস্থায় চুল নড়ম হওয়ায় সহযে ভেঙে যায়। ভেজা চুল না আঁচড়ানোই ভাল কারণ তখন চুলের গোঁড়া নরম থাকে।
ঘুমাবেন যেভাবেঃ
রাতে ঘুমানোর আগে চুল আঁচড়িয়ে হালকা করে বেনি করে ঘুমাবেন, তাহলে আর জট পাকাবেনা আপনার চুল। কটনের বালিশ পরিহার করুন ও স্যাটিনের বালিশে ঘুমালে চুল কম ঝরে।
চুলের জন্য কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিঃ
নারিকেল তেল + দারুচিনি গুড়া করে মিক্স করে চুলের গোড়ায় মাসাজ করলেবচুল পড়া রোধ হয়ে থাকে।
এক মগ পানি + কিছু পেয়ারা পাতা সিদ্ধ করে ঐ চুল সিদধ করা পানি দিয়ে চুল ধৌত করতে পারেন।
পেয়াজের রস চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন । এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাবে এবং চুলে খুসকি থাকলে সেটাও কমে যাবে।
এছাড়াও মধু এবং দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে চুল কমে যাওয়া জায়গার তালুতে লাগালে নতুল চুল গজায়।
খাবারের সাথে এবং তেলের সাথে চুলে কালোজিরা ব্যাবহার করুন তাহলে চুল পড়া বন্ধ হবে।
একই প্রকারের হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করুনঃ
সবসময় একই কোম্পানির একই ধরনের পণ্য ব্যবহার করলে চুলের জন্য ভাল।তাছাড়াও কোন প্রকারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সহজেই ভালকরে চুলের যত্ন নিতে পারবেন।
অতিরিক্ত হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকুনঃ
তাপ আমাদের মাথার চুলকে ভেঙে যেতে সহায়তা করে আর তাই চুলে হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকাই সবথেকে উত্তম।
অতিরিক্ত হিটের কারণে চুল সহজেই ভেঙে সহায়তা করে এমনকি জ্বলে যেতেও পারে তাই ব্লোয়ার, আয়রন অথবা চুল স্ট্রেটনার সাবধানতার সাথে ব্যভার করা উচিত।
তোয়ালে আলতোভাবে ব্যবহার করুনঃ
চুলকে মোছার সময় খুব চাপ প্রয়োগ করলে বারবার ঘর্ষণের ফলে চুল গোড়া থেকে ভেঙে যাওয়ার আশংকা থাকে।তাই আলতোভাবে তোয়ালে ব্যবহার করা উচিত।
আঁটসাঁট বেণী বাধা থেকে বিরত থাকুনঃ
ঘুমানোর আগে বেশি শক্ত করে বেণী না করাই উত্তম। এতে করে চুল একসাথে থাকলেও টানটানেনা থাকার ফলে ভেঙে যাওয়ার সুযোগ কমে যায়।
ভালো মানের বালিশের কভার ব্যবহার করুনঃ
কটনের কাপড় রুক্ষ হওয়ার জন্য এতে ঘুমালে চুল ভেঙে যাওয়াটা দৈনন্দিন ঘটনা হয়ে যেতে পারে।
তাই পাতলা কাপড়ের কোমল কভার ব্যবহার করা অধিক যুক্তিযুক্ত।
হট অয়েল মাসাজ করুনঃ
চুলের যথাযথ পুষ্টি যোগাতে অয়েল মাসাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোকোনাট অয়েল ছাড়াও আমলা অয়েল, আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল ইত্যাদি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
তাছাড়া আপনি যদি চান তাহলে সবগুলাকে একসাথে মিক্স করে চুলে দিতে পারেন।
চুলে টিজিং করা পরিহার করুনঃ
যদিও টিজিং করে চুলের আয়তন বৃদ্ধি করা যায় কিন্তু তা চুলের সাস্থের জন্য ভালো নয়। তাই তা পরিহার করাই যথার্থ হবে।
চুল নিয়মিত ব্রাশ করুনঃ
চুল নিয়মিত ব্রাশ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
তাই নিয়মিত সময় করে দিনে ২-৩ বার এবং রাতে ঘুমানোর আগে চুল ব্রাশ করুন।
অতিরিক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট থেকে দূরে থাকুনঃ
চুলে অতিরিক্ত পরিমানে প্রসাধনী সামগ্রি ব্যবহার করা অনুচিত। তাহলে চুলের সুন্দর্য ঠিক থাকবে ও চুল হবে সাস্থবান।
চুল ঝরা ঠেকাতে চাইলে প্রতিদিন স্ট্রেটনার আর কার্লিং আয়রন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।এগুলা চুলের স্বাস্থ্যের প্রচণ্ড ক্ষতি করে থাকে। অতিরিক্ত তাপ লাগলে চুল ভঙ্গুর হয়ে যায়, ফলে সহজেই উঠে আসে। তাই এগুলা ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।
অতিরিক্ত আট করে খোঁপা, বিনুনি না বাঁধা উচিত, বেশি আট করে বাধলে চুলের গোড়া দুর্বল হয় ও চুল উঠতে শুরু করে।
তোয়ালে আলতোভাবে ব্যবহার করুনঃ
চুলকে মোছার সময় খুব চাপ প্রয়োগ করলে বারবার ঘতোয়ালের্ষণের ফলে চুল গোড়া থেকে ভেঙে যাওয়ার আশংকা থাকে।তাই আলতোভাবে তোয়ালে ব্যবহার করা উচিত।
আঁটসাঁট বেণী বাধা থেকে বিরত থাকুনঃ
ঘুমানোর আগে বেশি শক্ত করে বেণী না করাই উত্তম। এতে করে চুল একসাথে থাকলেও টানটানেনা থাকার ফলে ভেঙে যাওয়ার সুযোগ কমে যায়।
ভালো মানের বালিশের কভার ব্যবহার করুনঃ
কটনের কাপড় রুক্ষ হওয়ার জন্য এতে ঘুমালে চুল ভেঙে যাওয়াটা দৈনন্দিন ঘটনা হয়ে যেতে পারে।
তাই পাতলা কাপড়ের কোমল কভার ব্যবহার করা অধিক যুক্তিযুক্ত।
হট অয়েল মাসাজ করুনঃ
চুলের যথাযথ পুষ্টি যোগাতে অয়েল মাসাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোকোনাট অয়েল ছাড়াও আমলা অয়েল, আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল ইত্যাদি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
তাছাড়া আপনি যদি চান তাহলে সবগুলাকে একসাথে মিক্স করে চুলে দিতে পারেন।
চুলে টিজিং করা পরিহার করুনঃ
যদিও টিজিং করে চুলের আয়তন বৃদ্ধি করা যায় কিন্তু তা চুলের সাস্থের জন্য ভালো নয়। তাই তা পরিহার করাই যথার্থ হবে।
চুল নিয়মিত ব্রাশ করুনঃ
চুল নিয়মিত ব্রাশ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
তাই নিয়মিত সময় করে দিনে ২-৩ বার এবং রাতে ঘুমানোর আগে চুল ব্রাশ করুন।
অতিরিক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট থেকে দূরে থাকুনঃ
চুলে অতিরিক্ত পরিমানে প্রসাধনী সামগ্রি ব্যবহার করা অনুচিত। তাহলে চুলের সুন্দর্য ঠিক থাকবে ও চুল হবে সাস্থবান।
চুল ঝরা ঠেকাতে চাইলে প্রতিদিন স্ট্রেটনার আর কার্লিং আয়রন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।এগুলা চুলের স্বাস্থ্যের প্রচণ্ড ক্ষতি করে থাকে। অতিরিক্ত তাপ লাগলে চুল ভঙ্গুর হয়ে যায়, ফলে সহজেই উঠে আসে। তাই এগুলা ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।
অতিরিক্ত আট করে খোঁপা, বিনুনি না বাঁধা উচিত, বেশি আট করে বাধলে চুলের গোড়া দুর্বল হয় ও চুল উঠতে শুরু করে।
স্ক্যাল্পেকে নিয়মিত মাসাজ করুন
নিয়মিত স্ক্যাল্পে মাসাজ করলে মাথায় রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, চুল আর স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যও উন্নত হয়, চুলের গোড়া আরও মজবুত হয়ে ওঠে এমনকি চুলের বৃদ্ধিও ভালো হয়।
চুল ওঠার বড় কারন হল মানসিক চাপ। মাথায় মাসাজ করলে মানসিক চাপ কমে , তাতে চুল ওঠার সমস্যাও কমে যায়। এজন্য স্ক্যাল্পের যত্ন নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হল শ্যাম্পু করার পুর্বেই মাথায় হালকা গরম তেল লাগিয়ে মাসাজ করা।তাড়পরে আঙুল দিয়ে চুল খুব আলতোভাবে টানুন।যেন চুলে টানটা অনুভব করবেন অথচ ব্যথা লাগবে না। ধীরে ধীরে ওই অংশের স্ক্যাল্পে মাসাজ করুন। এভাবে পুরো চুল আর স্ক্যাল্প মাসাজ করুন।
বেশি পরিমানে রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুনঃ
যে সব শ্যাম্পু বা কন্ডিশনারে সোডিয়াম লরিল সালফেট রয়েছে তা ব্যবহার না করাটাই ভাল। এই সব শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারে চুলের ফলিকলে জ্বালা করতে পারে,ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি পুড়েও যেতে পারে। তাই সালফেটহীন ফরমুলাই আপনার চুলের পক্ষে সবচেয়ে ভালো, বিশেষ করে আপনার যদি চুল ওঠার সমস্যা থাকে। আমাদের পরামর্শ মেনে ট্রেসেমি হেয়ার ফল ডিফেন্স শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এই শ্যাম্পু আপনার চুল মজবুত করে তুলে চুল ওঠা বন্ধ করে। এই শ্যাম্পুতে কেরাটিন প্রোটিন রয়েছে, তাই এই শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুলে চুল আর্দ্রতা পায়, চুলের নমনীয়তাও বৃদ্ধি পায়। ট্রেসেমি হেয়ার ফল ডিফেন্স কন্ডিশনার চুলে ব্যবহার করলে , এতে আপনার চুল কোমল ও মসৃণ হবে।
মাঝেমাঝে চুল ওঠা কমাতে হলে আপনাকে শুধু মানসিক চাপমুক্ত থাকতে নিয়মিত ব্যয়াম করতে পারলে ভাল হবে। এপিনেফ্রিন, কর্টিসলের এর মতো স্ট্রেস হরমোনগুলা আপনার চুলের ন্যাচারাল বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে। তাই চাপমুক্ত থাকতে আপনাকে নিয়মিত ব্যায়ামের মতো ভাল আর কিছু নাই হতে হবে।
দৌড়োনো, জগিং, ধ্যান করার, নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে দিয়ে মানসিক চাপ কমাতে পারেন। যে সকল কাজ আপনার মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে, তার সব কিছুই আপনার চুলের পক্ষে ভালো।
চিকিৎসা
চুলে উঠার কিছু চিকিৎসা রয়েছে। এর মাঝে
বেশির ভাগ চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হলেও সম্পুর্ণ পুর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ২-৫ পার্সেন্ট মিনস্কিডিল ব্যবহার করার মাধ্যমে ভাল উপকার পাওয়া যায়। এখন আবার চুল প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকে যা অনেক ব্যয়বহুল।
তাই আগেই চুলের যত্ন নিয়ে চুলকে সাস্থ্যবান ও সুন্দর রাখুন।
No comments:
Post a Comment